Thursday, 3 September 2020

বিক্রম দাস


কার্টুনের মজা 

বিক্রম দাস


ঢোলাক পুরে ভীমের বাড়ি,
কৃষ্ণের সাথে কংশের আড়ি;
হাতুড়ি দেখায় নিনজা খেল,
ডোরেমন ছাড়া নোবিতা ফেল,
ডোরেমনের গ্যাজেট গুলো যদি একবার পেতাম!
আকাশেতে পাখি হয়ে কবে উড়ে যেতাম।।

অভীক গুচ্ছাইৎ


 পঞ্চমীর প্যাঁচে

অভীক গুচ্ছাইৎ


পঞ্চমীর বিকেল। দু'দিন আগেই মায়ের প্রতিমা চলে এসেছে। পুজোর মন্ডপ সাজানো হচ্ছে, চেয়ার ফ্যান ইত্যাদি আনা হচ্ছে, কালকের অনুষ্ঠানের জন্য স্টেজ সাজানো হচ্ছে। আমি, বুরুদা আর বিল্টে চেয়ারে বসে আছি। পুজোর গন্ধে মেতে বুরুদাও আছে খোশমেজাজে। হঠাৎ করুন স্বরে ব্যাজার মুখ করে বলল, " হুলো, তুইতো এক টাকাও দিবি না, আর বিল্টে! ও তো বিশ্ববিখ্যাত সেরা কৃপণ। গতবছরের পুজোয় বললাম, বিল্টে কিছু খাওয়া একটু মুখসুদ্ধি করি। ও নবাবি ভঙ্গিতে বলল, নো চিন্তা আমি করাব তোমার মুখসুদ্ধি, দিয়ে ব্যাটা নিয়ে এলো একটাকা দিয়ে দুটো হাজমোলা। ওকে আবার বলব!" আমিই বললাম,"কী খাওয়ার জন্য এত আঁকুপাঁকু করছ শুনি?" বুরুদা করুন সুরে বলল, "আইসক্রিম!" তারপর হঠাৎই লাফিয়ে উঠে বলল, " ঐ তো মিত্তিরদের ছেলে, আমি আমার শকুনেরও বাড়া চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছি ওর পকেটে পঞ্চাশ টাকার নোট। দাঁড়া, এমন প্যাঁচ কষব না!" বিল্টে ভয়ে বলল," ওকে প্যাঁচে জড়াচ্ছ কেন, তাও আবার এই পুজোর সময়, ও তোমার কোন্ জন্মের শত্রু? তোমার ঘোর পাপ হবে।" "ধুত্তোর তোর পাপ, আমিতো শুধু রসিকতা করছি, আর কী শুধু আমার জন্য, তোরাও তো আছিস।" আমি উৎসাহের সঙ্গে বললাম, " তা কী করবে বুরুদা শুনি।" বুরুদা মিচকে হেসে বলল, " শোন, ওর পকেটে পঞ্চাশ টাকা, ও তো হাবাগাধা, ওকে একটা বড় সাইজের কুড়িটাকার কিনে দিয়ে, বাকিটায় আমরা আইসক্রিম খাব। হুঁ হুঁ এইজন্যই আমার নাম বুরু।" বিল্টে শুনেই উদাসীন হয়ে বলল," ছিঃ ছিঃ বুরুদা, তুমি পুজোর দিনে এরকম চালিয়াতি করবে! খাব না আমরা তোমার চোরাই আইসক্রিম। কী বলিস হুলো?" আমিও গোবেচারার মত বললাম, "আমি ও খাব না তাহলে।" শুনেই বুরুদা রেগে বাজখাই গলায় বলল, " ঠিক আছে যা যা, ঘরে বসে মাছের মুড়ো খা গে। তোরা কি আর এসব রসিকতা বুঝবি? বাট মাইন্ড ইট, ঐ মিত্তিরদের ছেলে যেন এই ষড়যন্ত্রের গোঁড়াটুকু না জানতে পারে, তাহলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব তোদের।" বুরুদার ধমক, তাই আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। একটু পরে যেই মিত্তিরদের ছেলে এসেছে, ওমনি বুরুদা দু'লাফে ওর কাছে ছুটে গিয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে বলল, " শোনো ভাই মিত্তির, তুমি বরং এখানে বোসো, আমি তোমার জন্য একটা খাসা আইসক্রিম নিয়ে আসছি, তুমি টাকাটা আমাকে দাও।" শুনে তো মিত্তির একেবারে লাফিয়ে উঠে টাকাটা বুরুদার হাতে নিয়ে দিল। কিন্তু সে কি আর জানে বুরুদা ভেতরে ভেতরে কত বড় প্যাঁচ কষছে। বুরুদা ছুট্টে দোকানে গিয়ে একটা পেল্লায় আইসক্রিম আর নিজের জন্য একটা মাঝারি সাইজের নিয়ে দোকানে পঞ্চাশ টাকা রেখে হাওয়া হয়ে গেল। মিত্তিরকে ধরিয়ে বলল, " হে হে ভাই মিত্তির, তোমার জন্য একটা দারুন আইসক্রিম এনেছি, মজাসে খাও, আমি চললাম।" পরদিন সকালে আমরা যেই ঐ চত্তরে গেছি ওমনি বিহারী দোকানদার বুরুদার দিকে গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে বলল, " এই ছোকরা ইধরকে এসো, কাল তোমি যে বড়ো আইসক্রিমঠো লিয়ে ছিলে সেটোর দাম পঞ্চাশ রুপিয়া আছে, আর তুমি যে কোনটা চাঁটছিলে সেটোর দাম তিরিশ রুপিয়া, তুমিতো জলদি জলদি পালিয়ে গেলে, নাও এখন চটপট তিশ রুপিয়া বাহার করো।" বুরুদার চোখতো কপালে উঠে গেল। নিজের প্যাঁচে নিজেই জড়িয়ে পড়ল। আর আমাদের মনে একটাই কথা ঘুরপাক খেতে লাগল, " অতি চালাকের গলায় দড়ি।"

সুনন্দ মন্ডল


আমার ব্যথা 

সুনন্দ মন্ডল 

ঝপর ঝপর বৃষ্টি পড়ে
জল জমে যায় খাতে।
ভাদ্র মাসে রাতের বেলা
তালের গন্ধে মাতে।

জন্মাষ্টমী মানে কৃষ্ণ পূজা
আমায় কে বা জানে?
বাড়ির সবাই কেষ্টদাকে
খুবই যেন মানে।

মাথায় নিয়ে নাচে শুধু
আবির মাখে গা'য়।
আমার কথা ভুলে গিয়ে
কৃষ্ণনামই গায়।

আমিও যে ওদের ছোট্ট শিশু
মাখন বড্ড ভালোবাসি!
বোঝে না কেউ আমার ব্যথা 
শুধু দুঃখটা হয় বাসি। 

শম্ভু সরকার


 বনভোজনের দিন

শম্ভু সরকার



এলো আবার বছর ঘুরে বনভোজনের দিন

খুশিতে তাই খোকাখুকু নাচছে তা ধিন ধিন।

পড়াশোনার নেই ঝামেলা বছর শুরু সবে

সবাই মিলে হৈ হুল্লোড় কেমন মজা হবে?

একটু যদি দুস্টুমি হয় বকবে না কেউ আজ

ঘুরে ঘুরে দেখবে সবাই বনভূমির সাজ।

নানান রকম ফুলের বাহার কাঁপবে ভীষণ শীতে

নাচবে যত কচিকাঁচা নিজস্ব ভঙ্গিতে।

হরেক রকম খাওয়া দাওয়া বসে পাশাপাশি

দুঃখ ভুলে এমন দিনে শুধুই হাসাহাসি।

পিঠে ফেলে রোদের পরশ কত রকম খেলা

ছেলে বুড়ো এক হয়ে যায় এমন খুশির মেলা।

ঐ সুদূরে ঝিলের ধারে উড়বে কত পাখি

এ সব ছেড়ে আমরা মিছেই দুয়ার এঁটে থাকি।

বাইরে কত সুখের হদিস দেখবে যদি এসো

পড়াশোনার পাশাপাশি আকাশ ভালোবেসো।


বর্ণা দত্ত


 আলোক জ‍্যোতির সাথে                                                                                               বর্ণা দত্ত


অনেক অনেক দিন আগেরকার কথা তখন আমার বয়স কতই বা হবে এই ধরো বারো কি তেরো এর বেশী তো নয়ই যাইহোক, সেদিন রাতের পড়া শেষ করে খেয়েদেয়ে খুব তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়েছিলাম কারণ  ভোরবেলায় উঠতে হবে পরদিন ভোর বেলায় পঁচিশে বৈশাখ, স্কুল থেকে প্রভাতফেরীতে যেতে হবে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মাকে বললাম, ভোরবেলা ডেকে দিতে। 

যথারীতি ভোরবেলা তবে,ভোরবেলা বললে ভুল হবে একটু বেশী ভোরবেলা বলেই মনে হয়েছিল ,আমি তো উঠে গেট খুলে বাইরে বেরিয়েছি, সেদিন ছিল  ভরা পূর্ণিমা, আকাশে বিরাট চাঁদ, তার আলোয় চারদিক্ ঝলমল্ করছে। এমন সময় কোথা থেকে  খুব গভীর আর তীব্র একটি আলোক রশ্মি মনে হল আমার থেকে কিছুটা দূরেই মাটির খুব কাছাকাছি স্থির হয়ে  রয়েছে যাকে পূর্ণীমার ঝলমলে আলোর মধ‍্যেও  আলাদা করে  চেনা যাচ্ছিল। ঐ আলোক রশ্মির টানে আমি যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো ওই দিকে ছুটছিলাম, ও যেন আমায় পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল,  এই ভাবে আমি জানি না কতটা পথ সেদিন ছুটেছিলাম। তারপর হঠাৎ এক জায়গায় এসে আলোক রশ্মিটা থেমে গিয়ে মিলিয়ে গেল আর যেখানে এসে থেমে মিলিয়ে গেল অদ্ভুত লাগছিল সেই জায়গাটা, একদম অচেনা, একটি জানালা, বহু পুরোনো একটি বটগাছ তার নীচেই একটি পুকুর, বট গাছটা নুয়ে আছে পুকুরের জলের উপর। আর কিছুটা দূরে একটি ঘর, ঘরের ভিতরে একটি জানালা রয়েছে, জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে একটি বাচ্চাছেলে আর দেখলাম  পুকুর ভর্তি মাছ কিন্তু অদ্ভুত  ঐ দৃশ‍্য মিলিয়ে যেতে লাগল আস্তে আস্তে, মন্ত্র মুগ্ধের মতো সেই পরিবেশ। ঐ দৃশ‍্য মিলিয়ে যেতে না যেতেই দেখলাম সেই জায়গাটি ছোট্ট ছোট্ট গাছ আর  সুন্দর সুন্দর ফুলে ভরে  উঠেছে কিন্তু সেসব ও একসময় উধাও হয়ে গেল এবার দেখলাম বিড়াট একটি নদী, ‌অপুর্ব সুন্দর তার দুই পাড়ের দৃশ‍্য ।নদীতে একটি বড়ো নৌকো তার মধ‍্যে দুধ সাদা রঙ্গের ধুতি পাঞ্জাবী পরিহিত একজন, মায়াবী আলো আর তাঁর ভিতর থেকেও যেন এক আলোকজ‍্যোতি ঠিকরে বেড়িয়ে চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছিল আমার ,বেশ খানিকটা দূরে গিয়ে আমার চোখের দৃষ্টি আবদ্ধ হয়ে গেল কতগুলো হলুদ আলোক বিন্দুর উপর  যা  আমাদের গাঁয়ের বাড়িগুলোতে দেখতে পাই।একের পর এক দৃশ‍্য দেখছি আর একটি একটি করে মিলিয়ে যাচ্ছে,  ভয়ঙ্কর এক আনন্দ আর উত্তেজনার মধ‍্যে চোখ যখন ডুবে রয়েছে ঠিক সেই সময়  আর একটি চমকপদ দৃশ‍্য, সেই আলোক জ‍্যোতি অনেকটা জায়গা জুড়ে বহু গাছগাছালিতে  ঘেরা একটি জায়গায় ছোট্ট একটি চারাগাছ কে পরম যত্নে মাটিতে  বসিয়ে  এবং তাতে জল দিচ্ছিলেন আর তাঁর চারপাশে প্রচুর প্রচুর আলোক রশ্মিরা ভীড় করে রয়েছে।  
        
          আমি আশ্চর্য হয়ে ঠায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলা, কিন্তু এরপর যা ঘটল রীতিমতো  মুগ্ধ  না হয়ে  পারলাম না সেই আলোক জ‍্যোতি একটি টেবিলের উপর খাতার পর খাতা লিখেই চলেছেন…
তারপর দেখছি, একের পর এক মলাট বাঁধানো বই তাঁর চারদিকে কেউ একজন থরে থরে সাজিয়ে দিচ্ছে আর তিনি লিখেই যাচ্ছেন… এমন সময় মায়ের হাতের   আলতো ঠেলা  অনুভব করলাম আর সেই সঙ্গে শুনতে পেলাম, "কিরে উঠ, সকাল হয়ে গেছে তো,   স্কুল যাবি না? প্রভাতফেরীতে যেতে দেরী হয়ে যাবে তো।"
             

প্রশান্ত ভৌমিক


 যাই হারিয়ে

প্রশান্ত ভৌমিক


ইচ্ছে করে হারাতে তাই
 পাখির মত উড়ি,
চাঁদের দেশে গিয়ে দেখি
চরকা কাটা বুড়ি।

মাঝ সমুদ্দুর ঢেউয়ের দোলায়
উথাল পাথাল ভাসি,
ইচ্ছে নদীর কিনার ঘেসে
খেলতে গিয়ে হাসি।

ছোট্ট মনে এক বাসনা
সুখের নাগাল চাই,
সুখের টানে অজানাতে
তাই হারিয়ে যাই। 

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

 



আমার দাদী

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


সাতসকালে দাদী আমার

প্রাণ খুলে গান করে

গান শুনে যে হাসবে তাকে

বন্ধ রাখে ঘরে।


যদি তুমি কেঁদেও ফ্যালো

ছাড়বে নাকো দাদী

বয়স তোমার যাই হোক না

দেবে তোমার শাদি।


তার চেয়ে ভালো গান শুনে ভাই

চোখ বুজে ঘাড় নাড়ো

দেখবে দাদী খুশি হয়ে

দেবে টাকা বারো।


প্রতি মাসের জনপ্রিয় লেখা