কচুর ক্লাবের রাজভোজন
অভীক গুচ্ছাইৎ
রবিবার সকাল। মারাত্মক গরম। সকালে উঠে পড়াশোনা সেরে চান করে বসেছি। ওমনি বাইরে থেকে বাজখাঁই গলায় ডাক," কী রে হুলো, বেরুবি না?" এক দৌড়ে বারান্দায়। গিয়ে দেখি বুরুদা। সেই হিরোর মতন চুল, থ্যাবড়া নাক আর ভামবিড়ালের মতো কান। এবার বলল, " আয়রে"।বুরুদা আর বিল্টের মুখ দেখে আমি গোবেচারার মতো মুখ করে তাড়াহুড়োয় মাকে বলেই ছুটলাম। তিন পা নেমেছি, ব্যাস্! এক রাম আছাড়। তারপর, হাঁটু ছিঁড়ে নদীর জলের বেগে রক্ত বইছে। বুরুদা আর বিল্টে ছুটে এলো। মা তো দেখেই এক পাড়া কাঁপানো চিৎকার, তারপর ফ্ল্যাট্। বাবা আসার আগেই ম্যানেজ করতে হবে, নইলে পিঠে রয়্যাল বেঙ্গলের থাবা। বুরুদা আর বিল্টে আমায় চ্যাংদোলা করে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে ওষুধ আর জল দিতে রক্ত পড়া থামল। তারপর মায়েরও ফিরল জ্ঞান। আর মলমপট্টি করে মা রান্নাঘরে যেতেই, বিল্টে আর বুরুদা টানা আধঘন্টা লেকচার দিল। তারপর বুরুদা বলল, " পাড়ার লোকগুলো এমন হাড়কিপটে, ক্লাব খুলব একটা টাকা বের করে না। বলে কিনা, " ছেলেমানুষ আবার ক্লাব খুলবে কোন্ সাধে? কুড়ি জন দু'শো টাকা ক'রে দিয়েছে। বুরুদা বিল্টেকে বলল, "তা'লে কত হল বল্?" বিলটে তো এক নম্বরের গাধা, পরীক্ষায় সাতবার ডাহা ফেল, বলল, "৫০০ টাকা।"বুরুদা রেগে বলল, "তোর মাথা! হিসেব-নিকেশ আদৌ জানিস্? সব মিলিয়ে চার হাজার টাকা।" এর মধ্যে মা চপ রেখে গেছে, চোখের নিমেষে বুরুদা ছ'টা চপই মেরে নিল। আমরা একটাও পেলাম না। বললে তো পিঠে এক ঘুষি! তাই চুপ করে গেলাম। চপ সাঁটিয়ে এক চোঙা ঠেঁকুর তুলে বুরুদা বলল, "এই যে হুলো মহাশয়, আপনি পাঁচশো টাকা দেবেন।" আমি থতমত খেয়ে বললাম, " কেন অত কেন, টাকা কি গাছে হয়?" বুরুদা গম্ভীরস্বরে বলল, "কেন দিবিনা, তুইতো চেয়ারম্যান!" তবু চুপ করব না, করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে। উত্তেজিত গলায় বললাম, " আমি কী পাব?" বিল্টে ফস্ করে বলল, "সম্মান"।বুরুদা ওর মুখে চপের গুঁড়ো ছুড়ে বলল," রাজার ভোজন"। শুনে আমার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল। "কী খাওয়াবে!" বুরুদা শেয়ালের মতো মুখ করে বলল, " কচুর পোলাও, কচুর ডালনা, কচুর চপ...."। "ব্যাস" আমি চেঁচিয়ে বললাম। " যথেষ্ট শ্রীমান, টাটা বাইবাই, আবার যেন দেখা না পাই"।মনে মনে বললাম," কচুর ক্লাবের কচুর ভোজন, দুত্তোর"!











